ভোটার লিস্টে ‘ভূত’? দায়ী BLO-র সঙ্গে এজেন্টও, নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের
এই সময়: কোনও বুথের ভোটার তালিকায় মৃত ভোটার রয়েছে? অথবা ডুপ্লিকেট ভোটারের সংখ্যা কোনও বুথে কত? অথবা কতজনের কাছে এনিউমারেশন ফর্ম পৌঁছনো যায়নি? অথবা বুথ...
রিনিকা রায় চৌধুরী

ভোটার লিস্টে ‘ভূত’? দায়ী BLO-র সঙ্গে এজেন্টও, নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের
এই সময়: কোনও বুথের ভোটার তালিকায় মৃত ভোটার রয়েছে? অথবা ডুপ্লিকেট ভোটারের সংখ্যা কোনও বুথে কত? অথবা কতজনের কাছে এনিউমারেশন ফর্ম পৌঁছনো যায়নি? অথবা বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও) সঙ্গে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টের মিটিংয়ে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে?
এনিউমারেশন পর্ব চলাকালীন এমন সবক’টি বিষয়েই বিএলও–দের পাশাপাশি বিএলএ এবং বিএলও সুপারভাইজ়ারদেরও আরও বেশি করে দায়বদ্ধ করছে নির্বাচন কমিশন। কারণ, প্রতিটি বুথে কত মৃত, ডুপ্লিকেট ভোটার, স্থায়ী ভাবে অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া ভোটার রয়েছেন, তা চূড়ান্ত করার পরে নির্দিষ্ট ফর্মে সই করতে হবে বিএলও, বিএলএ এবং বিএলও সুপারভাইজ়ারকে। সংশ্লিষ্ট মিটিংগুলিতেও কারা থাকবেন, তাঁদের সই আবশ্যিক করা হয়েছে। এই মর্মে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল নির্দেশিকাও জারি করেছেন।
কমিশন প্রাপ্ত তথ্য, কোনও ভাবে ভোটার তালিকায় বেনো জল ঢুকে পড়লে, তার জন্য সংশ্লিষ্টদের দায়বদ্ধ করার পাশাপাশি আগামী দিনে যাতে এ নিয়ে অভিযোগ উঠলে তার নিষ্পত্তি করা সহজ হয়, সেজন্যই এই উদ্যোগ। তবে যে সব জায়গায় শাসক–বিরোধী দলের বিএলএ থাকবেন না, সেখানে বিএলও–দেরই মূলত দায়বদ্ধ থাকতে হবে। ফলে পরবর্তী সময়ে তালিকা ত্রুটিপূর্ণ বলে জানা গেলে তাঁদেরই সমস্যায় পড়তে হবে।
ভোটার তালিকা থেকে ভূতুড়ে ভোটার বাদ দিতে ইতিমধ্যে সাত দফা ছাঁকনির ব্যবস্থা করেছে কমিশন। সেই অনুযায়ী এনিউমারেশন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পরে ছাঁকনি অনুযায়ী ক্যাটিগরি মিলিয়ে বুথ ধরে ধরে ফর্মগুলি যাচাই করতে হবে বিএলও–দের। যদি কোথাও ত্রুটি ধরা পড়ে, সেক্ষেত্রে ‘রোল ব্যাক’ অপশনে গিয়ে বিএলও অ্যাপে সংশোধন করতে হবে। ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে। সব জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) বলা হয়েছে, যাতে তাঁরা বিএলও, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং এইআরও–দের এই বিষয়টি বারবার মনে করিয়ে দেন। এনিউমারেশনের পরে ডুপ্লিকেট ভোটার বের করতে ‘ডেমোগ্রাফিক সিমিলার এন্ট্রি’ নামে নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করেছে কমিশন।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন রাজ্যের ২,২০৮টি বুথকে চিহ্নিত করেছিল যেখানে একটিও মৃত, ডুপ্লিকেট, শিফ্টেড বা স্থানান্তরিত এবং নিখোঁজ ভোটার নেই। কমিশন গোটা বিষয়টি সফটওয়্যার দিয়ে যাচাই করার সময়ে বিষয়টি নজরে আসে। সেইমতো সংশ্লিষ্ট ডিইও–দের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়। তারপরে সেই সংখ্যাটা নামতে নামতে বৃহস্পতিবার মাত্র ৭–এ এসে পৌঁছয়। কোচবিহারের দিনহাটার এ রকম একটি বুথের খবর বৃহস্পতিবারই তুলে ধরেছে ‘এই সময়’। যেখানে ১৪ জন মৃত ও ২৫ জন শিফ্টেড ভোটারের অস্তিত্ব মিললেও তাঁদের এনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করে ফেলা হয়েছিল। বিএলও অবশ্য এব্যাপারে স্থানীয় বিডিও অফিসকেই দায়ী করেছেন।
সিইও মনোজ আগরওয়াল বিএলও–বিএলএদের এই মিটিং সংশ্লিষ্ট বুথেই করতে হবে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারায় কেউ ভুল তথ্য দিলে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা যেতে পারে। ফলে বিএলএ কোথাও চাপ দিয়ে ভুল তথ্য দিয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। আর বিএলও বা ইআরও–রা কেউ জেনেশুনে এই কাজ করে থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে ৩২ নম্বর ধারা অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ হবে।
বিএলও–দের যে ভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ করা হচ্ছে, তাতে যদিও আপত্তি নেই ‘ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্য মঞ্চে’র। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশকে আমরা সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘বেশিরভাগ বিএলও সঠিক ভাবে, নিয়ম মেনে কাজ করছেন। কিন্তু যাঁরা অন্যায় ও দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে এই নির্দেশ কাগজে–কলমেই থেকে যাবে। তবে অনিচ্ছাকৃত ভুল যদি হয় তা হলে তাঁদের সংশোধন করার সুযোগ দেওয়া উচিত ১১ ডিসেম্বরের পরেও।’
*এই সংবাদটি বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহীত এবং সম্পাদনা করা হয়েছে।*

